| বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানের হুমকি: কানাডা ও ফ্রান্সের কঠোর প্রতিবাদ | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-03-2026 ইং
  • 505844 বার পঠিত
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানের হুমকি: কানাডা ও ফ্রান্সের কঠোর প্রতিবাদ | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানের হুমকি

লেবাননে ইসরায়েলি স্থল অভিযানের তোড়জোড়: কানাডা ও ফ্রান্সের কড়া হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযান ও দখল পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের ভেতরে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবরের পর ইসরায়েলকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে কানাডা ও ফ্রান্স। বুধবার (২৫ মার্চ, ২০২৬) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবি পশ্চিমা বিশ্বের

কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে লেবাননের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেছে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। বিবৃতিতে সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং বেসামরিক নাগরিক, স্বাস্থ্যকর্মী ও শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একই সুরে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো ইসরায়েলকে পরিকল্পিত দখল অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরণের সামরিক পদক্ষেপ মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।

ইসরায়েলের 'লিতানি নদী' পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও ইসরায়েলের নীতি নির্ধারকদের বক্তব্যে আগ্রাসনের সুর স্পষ্ট। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, লিতানি নদী পর্যন্ত এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তিনি গাজার রাফাহ ও বেইত হানুনের অভিযানের উদাহরণ টেনে একই ধরণের কৌশলের কথা জানান।

অন্যদিকে, কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ আরও এক ধাপ এগিয়ে দক্ষিণ লেবাননকে সরাসরি ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি তুলেছেন। তার মতে, ইসরায়েলের সীমান্ত লিতানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়া উচিত।

১৯৫০ থেকে ২০২৬: লেবানন-ইসরায়েল সংকটের ইতিহাস

লেবানন ও ইসরায়েলের এই ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৫০-এর দশকে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকেই এই সীমান্তে উত্তেজনা বিদ্যমান। ১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে ইসরায়েল একাধিকবার লেবাননে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালিয়েছে। ২০০৬ সালের যুদ্ধের পর লিতানি নদী এলাকাটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশের’ শান্তিকামী মানুষ যেমন সব ধরণের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, তেমনি ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ব সম্প্রদায়ও একটি নতুন বড় যুদ্ধের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন। ১৯৫০ সালে যা ছিল স্রেফ সীমানা বিরোধ, ২০২৬ সালে তা রূপ নিয়েছে ড্রোন ও আধুনিক মারণাস্ত্রের এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে।


সূত্র: ১. আল জাজিরা ইন্টারন্যাশনাল ও এএফপি (AFP) (২৫ মার্চ ২০২৬)।

২. কানাডা ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল বিবৃতি।

৩. টাইমস অফ ইসরায়েল ও জেরুজালেম পোস্ট (ইসরায়েলি মন্ত্রীদের বক্তব্য)।

৪. জাতীয় আর্কাইভস: মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও লেবানন যুদ্ধের ইতিহাস (১৯৫০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency